সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ , ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার, গুয়াহাটি ক্যাম্পে মানবেতর জীবন সুনামগঞ্জের যুবকের বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে সাহিত্য আড্ডা দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না : জয়সওয়াল তাহিরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দিরাই-শাল্লার উন্নয়ন করতে চাই : এমপি নাছির চৌধুরী গ্রামেগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ গ্রাহক সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত সুরমা নদীর পাড় যেন ময়লার ভাগাড় সুরমা নদীর ভাঙন অব্যাহত : অস্তিত্ব সংকটে বাউসা-কেশবপুর গ্রাম বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল একটি কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন থামে মাধ্যমিকেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন রফিকুল ইসলামের প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকট চুলা জ্বলে না, পাম্পে দীর্ঘ লাইন
দিনব্যাপী উত্তেজনা, সংঘাত ছাড়া শেষ হলো একাংশের গণসমাবেশ

দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

  • আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৩৮:১২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৩৯:০৭ অপরাহ্ন
দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে
স্টাফ রিপোর্টার::
দিরাইয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে সরকারি বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন অনুদান ভাগাভাগির অভিযোগ করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে গত ৬ আগস্ট এমপির দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন তারা। শনিবার (৮ আগস্ট) দিরাই পৌরসভার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক) ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে এসব অভিযোগ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁর আশপাশের একটি ‘সিন্ডিকেট’ সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদের অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি উন্নয়ন ও সহায়তার কাক্সিক্ষত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। তবে সমাবেশে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সমাবেশে বক্তারা গত ৬ আগস্ট দিরাই থানা পয়েন্টে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই স্মরণ সমাবেশে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা হাওরের মাঠে-ঘাটে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অথচ ৬ আগস্টের বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ না তুলে আওয়ামী লীগকে ‘মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দাও জানান তারা। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক) বলেন, দলের পদধারী নেতারা তারেক রহমানের প্রতিনিধি। তাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএস দিয়ে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্যের বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদের অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটেপুটে খাওয়া হচ্ছে। মঈনুদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপির বিভিন্ন বলয়ে বিভক্ত নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই সিন্ডিকেটের কারণে সংসদ সদস্য তাদের ধন্যবাদ পর্যন্ত দিতে পারেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, যে এমপি সাহেব সারা জীবন চোর তাড়িয়েছেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, সেই এমপি সাহেব এখন ডাকাত পালছেন। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুকের) সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতি রঞ্জন দাস, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অশোক রায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য শোয়েব হাসান, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, সুমন মিয়া, জাকারিয়া আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত রিপন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিলাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ও বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি উপেক্ষা করেই দু’পক্ষের শোডাউনে উত্তপ্ত হয়ে উঠে দিরাই। উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি মিছিল এবং সমাবেশ করে বিবদমান দুটি পক্ষ। শনিবার সকাল থেকে পুরো শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছাড়াই শেষ হয়েছে দুই পক্ষের কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থিত বলয়ের গত ৬ আগস্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে শনিবার (৮ আগস্ট) পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয় সংসদ সদস্যের আপন ছোট ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) এবং পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী সমর্থিত পক্ষ। এই সমাবেশকে তৃণমূলের একাংশ সমর্থন দিলে তৈরি হয় নতুন মেরুকরণ। পাল্টা এই কর্মসূচির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাতেই দিরাই থানা পয়েন্টে মহড়া ও প্রতিবাদ মিছিল করে সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর অনুসারীরা। ফলে শনিবার সকাল থেকেই থানা পয়েন্টসহ পুরো পৌর শহরে চরম সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। দিরাই থানার ওসির আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড এবং বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা করেনি কোনো পক্ষ। শনিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নেমে আসে উভয় পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দিরাই থানা পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতেই মুখোমুখি অবস্থানে থেকে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও তোপ দাগায় দুই পক্ষ। পরবর্তীতে ১৪৪ ধারার তোয়াক্কা না করেই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। ১৪৪ ধারার মধ্যে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল সমাবেশ শেষ করায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধেই মূলত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। একপক্ষ মিছিলের পর সমাবেশ করলেও পরিস্থিতি স¤পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এমন মুখোমুখি অবস্থান দিরাই বিএনপিকে অভ্যন্তরীণভাবে আরও সংকটময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স